উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নুসরাত বিনতে শহিদ ||
দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু হবে এই প্রতিযোগিতার মূল আয়োজন।যুবসমাজকে প্রযুক্তির অতিরিক্ত আসক্তি ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আগামী জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের বড় একটি অংশ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট প্রশিক্ষকের অধীনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মো. আমিনুল হক বলেন, প্রথম মৌসুমের জাতীয় পর্যায়ের খেলা আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় মৌসুমের প্রতিযোগিতা শুরু হবে দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে।তিনি জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন খেলায় হাজার হাজার দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও পেশাদার ক্যারিয়ার তৈরিতে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাইয়ের পর আরও ২০০ খেলোয়াড়কে পেশাদার ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর ফলে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা ও সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় থাকা খেলোয়াড়ের সংখ্যা প্রায় ৫০০-তে উন্নীত হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় বাড়ানো হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের জন্য শিগগিরই আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য অধ্যাপক ওবায়দুল স্যারের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।