উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নুসরাত বিনতে শহিদ ||
মাদকমুক্ত, সুস্থ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ডাক্তার, প্রকৌশলী কিংবা প্রশাসক হওয়ার পাশাপাশি একজন সফল ক্রীড়াবিদ হওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সপ্তম জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়। তাই সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৯৯ সালে আমি পাবনার এই মাঠে খেলেছিলাম। দীর্ঘ সময় পর আবার এই মাঠে এসে দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। এটি প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ খেলাধুলার প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা যেন আরও গৌরবজনক সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।তরুণদের ক্রীড়াচর্চায় সম্পৃক্ত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, সারাদেশে পরিচালিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির প্রথম আসরের সমাপনী আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় আসরের জন্য অনলাইন নিবন্ধন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নতুন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার যেসব মাঠ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণ, জেন-জি প্রজন্মের জন্য কৃত্রিম ঘাসের ফুটসাল গ্রাউন্ড এবং মিনি হকি টার্ফ নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের হাতে রয়েছে।পাবনার মানুষকে ক্রীড়াপ্রেমী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট ও প্রতিযোগিতার আয়োজনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হবে।পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম. সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু তালেব মণ্ডল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জহুরুল ইসলাম বিশু, পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিপুল সংখ্যক দর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।