উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ ফারুক আহাম্মেদ , বিশেষ প্রতিনিধি ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুটি এনজিওতে লুটের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আব্দুল গাফফার (৩৫) নামের এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরে কয়েক ঘণ্টা পর সদর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।রোববার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল গাফফার খাঁটিহাতা গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সরাইল উপজেলার উত্তর কুট্টাপাড়া এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় এনজিও কর্মী রাব্বী মিয়া আহত হন। শুক্রবার রাতে তিনি অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।এনজিও ও পুলিশ সূত্র জানায়, লুটের সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজনের মুখোশ খুলে যায়। আহত রাব্বী মিয়া ওই ব্যক্তির মুখ দেখতে পান। পরে পুলিশ কয়েকজনের ছবি দেখালে তিনি আব্দুল গাফফারকে শনাক্ত করেন।এরপর রোববার রাত ১০টার দিকে সরাইল থানার এসআই রাজিব বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল খাঁটিহাতা গ্রামে গাফফারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। বাড়িতে তাকে পাওয়ার পর দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়।পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে গাফফারের স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে ছিনিয়ে নেন। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।পরে রাত ১১টার দিকে সদর ও সরাইল থানা পুলিশ যৌথভাবে গাফফারের বাড়িতে অভিযান চালায়। রাত ১টা পর্যন্ত চলা অভিযানে তার পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।পুলিশ জানায়, সোমবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে আব্দুল গাফফার সদর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে সদর থানা পুলিশ তাকে সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।এদিকে, গাফফারের আত্মসমর্পণের পেছনে বিএনপির এক নেতার মধ্যস্থতা ছিল বলে জানা গেছে।সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “আব্দুল গাফফারকে গ্রেপ্তারের জন্য রোববার রাতে খাঁটিহাতায় অভিযান চালানো হয়। পরিবারের লোকজন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে কৌশলে থানায় হাজির করা হয়।”ওসি জানান, গাফফারের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।