উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশেষ প্রতিনিধি , Special Correspondent ||
নিজস্ব প্রতিবেদক | বিশেষ অনুসন্ধানবাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতের ৪২ জন সাংবাদিককে নিয়ে ভারতের হায়দ্রাবাদে বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সফরের বিমান টিকিট, আবাসন, পাঁচ তারকা হোটেলের সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত খরচের অর্থও বহন করছে ভারত সরকার। এমনকি পুরো আয়োজনের অর্থায়ন করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এমন তথ্যও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন ও প্রাতিষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।প্রশ্ন উঠেছে, কেন শুধু বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের সাংবাদিকদেরই এই বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হলো? অন্য কোনো দেশের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের ৪২ জন সাংবাদিককে এককভাবে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনে ভারতের উদ্দেশ্য কী?সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তাঁদের নির্বাচনের যোগ্যতা, মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। একটি সাধারণ পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হলে এসব তথ্য প্রকাশে গোপনীয়তার প্রয়োজন কোথায়?সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে একটি পেশাগত দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু যখন প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো জাতীয় কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাত, তখন বিদেশি রাষ্ট্রের পূর্ণ অর্থায়নে এমন আয়োজনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি-রপ্তানি, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বড় বড় অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি করছে, তখন সংশ্লিষ্ট খাতের সাংবাদিকদের বিদেশি রাষ্ট্রের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জনস্বার্থের আলোচনায় আসতে পারে।এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন—এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোই কি একমাত্র লক্ষ্য, নাকি এর বাইরে কোনো কূটনৈতিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে? বিদেশি রাষ্ট্রের অর্থায়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই কোনো সাংবাদিকের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। তবে অর্থায়নের শর্ত, আয়োজকদের উদ্দেশ্য এবং প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্বচ্ছতা না থাকলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।আরও প্রশ্ন রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সফরে কোনো সরকারি অনুমোদন বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ছিল কি না? থাকলে কোন কর্তৃপক্ষ কী বিবেচনায় অনুমোদন দিয়েছে?জনস্বার্থে যে প্রশ্নগুলোর জবাব প্রয়োজন:১. ৪২ জন সাংবাদিককে নির্বাচনের মানদণ্ড কী ছিল?২. অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?৩. ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নের শর্ত ও উদ্দেশ্য কী?৪. প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচিতে বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি?৫. সফরটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশ সরকারের অবহিতকরণ বা অনুমোদনের প্রক্রিয়া কী ছিল?৬. প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের কোনো প্রতিবেদন, মূল্যায়ন বা ফলোআপ কার্যক্রমের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি?সাংবাদিকতা কোনো রাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হতে পারে না। বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ অপরাধ নয়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিদেশি অর্থায়নে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচির প্রতিটি তথ্য জনসমক্ষে থাকা জরুরি।ভারতের এই আয়োজন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর কূটনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব—তা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের কাছ থেকেই আসা উচিত।প্রশিক্ষণের আড়ালে কোনো গোপন এজেন্ডা আছে কি না, তা অনুমান নয়—তথ্য, নথি ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই জাতির সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।