Aziz Bhaban, Lift 7, 93 Motijheel, Dhaka 1000    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দেশ-জার্নাল

লাইফস্টাইল

অপ্রতিমের পর আরেকটি হৃদয়বিদার ঘটনা

কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুত তাজমিন। গত ৪ অক্টোবর সকাল আটটায় বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। গত ১০ অক্টোবর সকালে তার মরদেহ লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধান ক্ষেতের পাশে পাওয়া যায়। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের নুরজাহান হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়- জান্নাতুত তাজমীন বুধবার রাত পৌনে ১২ টায় হোটেল নুরজাহান এর সামনে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক এক্সপ্রেস বাস  থেকে  নেমে রাস্তার দিকে  যাচ্ছে। সে একা ছিল। পরে সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। আমরা জাতি হিসেবে কতটা অসচেতন। সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সারা বাংলাদেশে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর রেশ না কাটতেই সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার। এখন হয়তো অনেকে বলবে- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, চুরি-ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ বেড়েছে। তা সত্যি। কিন্তু অভিভাবকরা কি সচেতন হয়েছে? না হয়নি। যদি সমাজে অপরাধ বাড়ে, তাহলে নিজেদের সচেতন হতে হয়। নিজেদের আত্মরক্ষা নিজেদের করতে হবে। প্রশাসন তো সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তাজমিনের আজকের এ পরিণতির জন্য আপনি কাকে দোষ দিবেন? দোষ অবশ্যই ঘাতকদের। যারা অপরাধী তাদের কাজই হলো অপরাধ করা। নিজেকে ঘাতকের হাতে তুলে দেওয়ার কাজটা আমরা নিজেরাই করছি। আমি ৯০% দোষ তাজমীন, বিশেষ করে তার অভিভাবককে। একটা ছাত্রী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে স্কুলে অনুপস্থিত, আপনি অভিভাবক হিসেবে কি খবর রাখছেন? কতটুকু অসচেতন আপনারা। হয়তো সে স্কুল ফাঁকিবাজি দিয়ে অন্য জগতে চলে গেছে। অথবা বাসায় থাকলে, কেন স্কুলে যাচ্ছেনা? কি  সমস্যা স্কুলে? এগুলো অবশ্যই অভিভাবককে জানা উচিত ছিল। আমার মনে হচ্ছে সে স্কুলের নাম দিয়ে বাসা থেকে বের হত, স্কুল ফাঁকিবাজি করে অন্য কোথাও চলাচল করতো। একটা মেয়ে কতটুকু অবাধ্য হলে বান্ধবীর বাসার নাম বলে বের হয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যায়। তুমি কার সাথে কক্সবাজার গেল? যদি সে একা যায় টাকা কোথায় পেলেন? এই বয়সে তার এই অবাধ্য হওয়ার পিছনে মা-বাবা দায়ী। একদিন যখন বাসায় ফিরেনি তখন মা বাবা কি করেছে? তারা কি একজন অভিভাবক হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, তা করেছে? তা করেনি। সামনে নিশ্চয়ই বার্ষিক পরীক্ষা। এই সময়ে স্কুলে না গিয়ে বান্ধবীর বাসায় কেন যাবে? আপনারা অভিভাবক হিসেবে তার সম্মতি দেন কিভাবে? একটা মেয়ে রাত বারোটায় বাস থেকে নেমে কিভাবে একা বাড়িতে ফিরবে? তার নিরাপত্তা কে দেবে? তার করুণ পরিণতি হবে না তো কার হবে? একবার ভাবেন- তার মৃত্যুটা কত কষ্টকর ছিল। তাকে কেন এভাবে জীবন দিতে হবে? শাসন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এখন আর সম্মান করেন না। শিক্ষকরা এখন শিক্ষার্থীদের ভয় পায়। পাশাপাশি সন্তানরা অভিভাবকের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যার ফলাফল, মৃত্যু অথবা নষ্ট সমাজের পথে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের সমাজে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানে এখন আর শাসন নেই। সন্তান ও অভিভাবকদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি চিরাচরিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির  অবনতি তো রয়েছে। অপ্রতিম, তাজমিনদের মৃত্যুতে শিউরে উঠি। এসব মেনে নেওয়া যায় না। এসব কোমলমতি শিশুরা কি এভাবেই প্রাণ দিবে? তাদেরকে আগলে রাখতে হবে। তাদের চলার পথ শিক্ষক ও অভিভাবকরা ঠিক করে দিতে হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে ...  করে দেওয়া উচিত। লম্বা সময়ের অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। এমন কয়েকটা হয়ে গেলে সমাজে অপরাধ কমে যাবে। অপারেশন ক্লিন হার্ট প্রয়োজন। অপরাধীদের জন্য হার্ট এটাক, সড়ক দুর্ঘটনার মত শাস্তি দরকার। অনেকে বলবে মানবাধিকার লঙ্ঘন। অপরাধীদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার শব্দটি ব্যবহার না করাই ভালো।

অপ্রতিমের পর আরেকটি হৃদয়বিদার ঘটনা