রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
দেশ-জার্নাল

জলবায়ু সহনশীলতায় মোংলায় ব্র্যাকের ১২ হাজার গাছের চারা বিতরণ



জলবায়ু সহনশীলতায় মোংলায় ব্র্যাকের ১২ হাজার গাছের চারা বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় ১২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ শুরু করেছে ব্র্যাক। ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিইআইপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে মোংলার চারটি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৭৫০টি পরিবারের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মোংলা উপজেলার ব্রাম্মণমেঠ জগন্নাথ মন্দির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রয়্যাল ড্যানিশ দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের উদ্যোগে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মো. নূর আলম শেখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কর্মকর্তা তৃপ্তি সরদার, রাশেদ খান, মাসুম মিয়া এবং স্থানীয় যুব নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, “মোংলা একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার বলেন, “উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত পরিবেশে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। সঠিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে এসব গাছ পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় মোংলার চাঁদপাই, চিলা, মিঠাখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৩ হাজার ৭৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

দেশ-জার্নাল

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


জলবায়ু সহনশীলতায় মোংলায় ব্র্যাকের ১২ হাজার গাছের চারা বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় ১২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ শুরু করেছে ব্র্যাক। ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিইআইপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে মোংলার চারটি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৭৫০টি পরিবারের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মোংলা উপজেলার ব্রাম্মণমেঠ জগন্নাথ মন্দির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রয়্যাল ড্যানিশ দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের উদ্যোগে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মো. নূর আলম শেখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কর্মকর্তা তৃপ্তি সরদার, রাশেদ খান, মাসুম মিয়া এবং স্থানীয় যুব নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, “মোংলা একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার বলেন, “উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত পরিবেশে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। সঠিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে এসব গাছ পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় মোংলার চাঁদপাই, চিলা, মিঠাখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৩ হাজার ৭৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।




দেশ-জার্নাল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নুরনবী সোহেল

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জলবায়ু সহনশীলতায় মোংলায় ব্র্যাকের ১২ হাজার গাছের চারা বিতরণ
0:00 / 0:00
1x