Aziz Bhaban, Lift 7, 93 Motijheel, Dhaka 1000    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দেশ-জার্নাল

পদ্মার কলতানে মেতে উঠল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা



পদ্মার কলতানে মেতে উঠল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা

উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের বেঙ্গাড়ী বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীজুড়ে গত তিন দিন ধরে চলছিল এক আনন্দ-উৎসব। সুপ্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সেখানে আয়োজন করা হয় জমকালো নৌকা বাইচ ও দেশীয় গ্রামীণ মেলা। শনিবার সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে পর্দাটানে বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজনের।


প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী দল অংশ নেয়, যেখানে বিজয়ীদের উদ্দীপনা জোগাতে ছিল এক লাখ টাকার নগদ পুরস্কার। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনের শুভ সূচনা করেছিলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার।


সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ প্রতিশ্রুতি দেন, এমন সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর পক্ষ থেকে সব ধরণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।


বাইচ ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ে ছিল দেখার মতো মানুষের ঢল। কাসর ও ঢোলের তালে তালে জলতরঙ্গ কেটে মাঝিদের অবিরাম বৈঠা চালনায় সৃষ্টি হয় এক রোমাঞ্চকর আবহ। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ৭০ ও ৭৫ হাত দীর্ঘ ‘বাংলার বাঘ’ এবং ‘জনতা এক্সপ্রেস’ নৌকা দুটির মুখোমুখি লড়াই দর্শকদের আলাদা নজর কাড়ে। নাটোরের লালপুরের দুই বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও হাফিজুর রহমান নৌকা দুটি ভাড়া করে প্রতিযোগিতায় নামিয়েছিলেন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ‘বাংলার বাঘ’ শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয়। নদীতে নামার আগে মাঝিদের ভক্তিভরে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনার আবেগঘন দৃশ্য কূলের মানুষকে স্পর্শ করে।


নৌকা বাইচের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী চারঘাট ও লালপুর এলাকাতেও। বাইচ উপলক্ষে নদীপাড়েই বসেছিল বিশাল মেলা। যেখানে মৃৎশিল্প, কাঁসা-পিতল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে হরেক রকমের মিষ্টি ও শিশুদের নানা খেলনার পসরা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিনোদনের অংশ হিসেবে সার্কাস ও শিশুদের নানা রাইডসও যোগ করেছিল বাড়তি মাত্রা।


উৎসব দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর রহমান জানান, নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণেই আমাদের গ্রামবাংলার বহু প্রাচীন সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। তাই লোকজ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সবার আগে নদী রক্ষার তাগিদ দেন তিনি।


আয়োজক কমিটির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতির গভীরতা তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ডাবলু সরকার এই বিশাল আয়োজনে বিএনপি নেতা মাসুদ করিম টিপু, জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও মাহবুব আলম জনির সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, যার ফলে পুরো উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

দেশ-জার্নাল

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


পদ্মার কলতানে মেতে উঠল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের বেঙ্গাড়ী বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীজুড়ে গত তিন দিন ধরে চলছিল এক আনন্দ-উৎসব। সুপ্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সেখানে আয়োজন করা হয় জমকালো নৌকা বাইচ ও দেশীয় গ্রামীণ মেলা। শনিবার সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে পর্দাটানে বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজনের।


প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী দল অংশ নেয়, যেখানে বিজয়ীদের উদ্দীপনা জোগাতে ছিল এক লাখ টাকার নগদ পুরস্কার। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনের শুভ সূচনা করেছিলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার।


সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ প্রতিশ্রুতি দেন, এমন সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর পক্ষ থেকে সব ধরণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।


বাইচ ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ে ছিল দেখার মতো মানুষের ঢল। কাসর ও ঢোলের তালে তালে জলতরঙ্গ কেটে মাঝিদের অবিরাম বৈঠা চালনায় সৃষ্টি হয় এক রোমাঞ্চকর আবহ। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ৭০ ও ৭৫ হাত দীর্ঘ ‘বাংলার বাঘ’ এবং ‘জনতা এক্সপ্রেস’ নৌকা দুটির মুখোমুখি লড়াই দর্শকদের আলাদা নজর কাড়ে। নাটোরের লালপুরের দুই বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও হাফিজুর রহমান নৌকা দুটি ভাড়া করে প্রতিযোগিতায় নামিয়েছিলেন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ‘বাংলার বাঘ’ শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয়। নদীতে নামার আগে মাঝিদের ভক্তিভরে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনার আবেগঘন দৃশ্য কূলের মানুষকে স্পর্শ করে।


নৌকা বাইচের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী চারঘাট ও লালপুর এলাকাতেও। বাইচ উপলক্ষে নদীপাড়েই বসেছিল বিশাল মেলা। যেখানে মৃৎশিল্প, কাঁসা-পিতল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে হরেক রকমের মিষ্টি ও শিশুদের নানা খেলনার পসরা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিনোদনের অংশ হিসেবে সার্কাস ও শিশুদের নানা রাইডসও যোগ করেছিল বাড়তি মাত্রা।


উৎসব দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর রহমান জানান, নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণেই আমাদের গ্রামবাংলার বহু প্রাচীন সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। তাই লোকজ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সবার আগে নদী রক্ষার তাগিদ দেন তিনি।


আয়োজক কমিটির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতির গভীরতা তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ডাবলু সরকার এই বিশাল আয়োজনে বিএনপি নেতা মাসুদ করিম টিপু, জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও মাহবুব আলম জনির সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, যার ফলে পুরো উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


দেশ-জার্নাল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নুরনবী সোহেল

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পদ্মার কলতানে মেতে উঠল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা
0:00 / 0:00
1x