শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
দেশ-জার্নাল

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব



অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (Project Directors) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত বিষয় এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। 

আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি (Traceability) ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

দেশ-জার্নাল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (Project Directors) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত বিষয় এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। 

আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি (Traceability) ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দেশ-জার্নাল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নুরনবী সোহেল

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব
0:00 / 0:00
1x