রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোঃ রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে একজন তাকে বাসার বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
পরবর্তীতে রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। এ ঘটনায় রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি এবং পরবর্তীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।
নিখোঁজ রাকিবকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে কাফরুল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করা হয়।
পরে গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আইনানুগ হেফাজতে নেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায়, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নিয়ে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নেয়। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে দেয়। এতে রাকিবের মৃত্যু হয় বলে আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
পরবর্তীতে মরদেহটি কার্টনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশাযোগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় মামুন। সেখান থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে নীলফামারীর ডিমলায় গিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে গর্ত করে মরদেহসহ কার্টনটি মাটিচাপা দেয়।
মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জীবন মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোঃ রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে একজন তাকে বাসার বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
পরবর্তীতে রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। এ ঘটনায় রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি এবং পরবর্তীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।
নিখোঁজ রাকিবকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে কাফরুল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করা হয়।
পরে গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আইনানুগ হেফাজতে নেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায়, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নিয়ে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নেয়। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে দেয়। এতে রাকিবের মৃত্যু হয় বলে আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
পরবর্তীতে মরদেহটি কার্টনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশাযোগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় মামুন। সেখান থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে নীলফামারীর ডিমলায় গিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে গর্ত করে মরদেহসহ কার্টনটি মাটিচাপা দেয়।
মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জীবন মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।