Aziz Bhaban, Lift 7, 93 Motijheel, Dhaka 1000    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দেশ-জার্নাল

ঈশ্বরদীতে হানিট্র্যাপে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩



ঈশ্বরদীতে হানিট্র্যাপে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

পাবনার ঈশ্বরদীতে পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে ডেকে নিয়ে এক মুদি ব্যবসায়ীকে বাসায় আটকে রেখে মারধর এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলী এলাকার মমতাজ ভিলা  থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মূল অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং মোছা. মুক্তি খাতুন (২৫)। তাদের সবার বাড়ি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার মহরকয়া গ্রামে হলেও বর্তমানে তারা ঈশ্বরদীর ওই বাসায় ভাড়া থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. আমিরুল ইসলাম (৫২) নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার চত্বর বাজার এলাকার একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল।


গত ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মুক্তি খাতুন মুঠোফোনে মুদি ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামকে ঈশ্বরদীর ওই ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা তার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং তা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। একপর্যায়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে একটি ঘরে আটকে রাখেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।


পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী আসমা খাতুন ও তার স্বজনদের সহায়তায় নগদ ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা সেই টাকা গ্রহণ করেন। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৭, তারিখ: ০৮/১০/২০২৬)।


ঈশ্বরদী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. রাসেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ  জানান, কৌশলে হানিট্র্যাপ বা ফাঁদে ফেলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই নারীসহ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

দেশ-জার্নাল

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


ঈশ্বরদীতে হানিট্র্যাপে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাবনার ঈশ্বরদীতে পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে ডেকে নিয়ে এক মুদি ব্যবসায়ীকে বাসায় আটকে রেখে মারধর এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পিয়ারাখালী জামতলী এলাকার মমতাজ ভিলা  থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মূল অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে চঞ্চল (৪৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (৩৫) এবং মোছা. মুক্তি খাতুন (২৫)। তাদের সবার বাড়ি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার মহরকয়া গ্রামে হলেও বর্তমানে তারা ঈশ্বরদীর ওই বাসায় ভাড়া থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. আমিরুল ইসলাম (৫২) নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার চত্বর বাজার এলাকার একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল।


গত ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মুক্তি খাতুন মুঠোফোনে মুদি ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামকে ঈশ্বরদীর ওই ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা তার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং তা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। একপর্যায়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে একটি ঘরে আটকে রাখেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।


পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী আসমা খাতুন ও তার স্বজনদের সহায়তায় নগদ ৭ লাখ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা সেই টাকা গ্রহণ করেন। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৭, তারিখ: ০৮/১০/২০২৬)।


ঈশ্বরদী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. রাসেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ  জানান, কৌশলে হানিট্র্যাপ বা ফাঁদে ফেলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই নারীসহ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


দেশ-জার্নাল

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নুরনবী সোহেল

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ঈশ্বরদীতে হানিট্র্যাপে ব্যবসায়ীকে আটকে ৭ লাখ টাকা আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩
0:00 / 0:00
1x