সুনামগঞ্জের ছাতকের পাগনা বড় বিলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আসন্ন বোরো মৌসুমের আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। হেমন্ত পেরিয়ে শীতের আগমনী বার্তা এলেও বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। সময়মতো পানি না কমায় ধানের বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এদিকে বিলের পানি নিষ্কাশনে বাঁধ কাটা নিয়ে ইজারাদার ও কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে টানাপোড়েন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো চাষের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময় চলে এলেও পাগনা বড় বিলের পানি এখনো নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়নি। ফলে জমিতে ধানের বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদন করতে পারছেন না তারা। দ্রুত পানি না নামলে নির্ধারিত সময়ে বোরো ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে না। এতে পুরো মৌসুমের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এদিকে বিলের পানি নিষ্কাশন ও বাঁধ কাটা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাগনারপাড় বিলের ইজারাদার সোনারতরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মিরাশ আলী পক্ষের দাবি, কৃষকদের বোরো আবাদ নিশ্চিত করতে পানি নিষ্কাশন জরুরি। তবে একটি পক্ষ বাঁধ না কাটার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
ইজারাদার পক্ষের অভিযোগ, যারা বাঁধ কাটার বিরোধিতা করে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের পাগনা বড় বিলে কোনো জমি নেই। জমি না থাকা সত্ত্বেও তারা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছেন। এতে বোরো জমি চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় আনছার আলী গংয়ের বিরুদ্ধে পানি নিষ্কাশন ও বোরো চাষে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে একদিকে কৃষকদের বোরো আবাদ রক্ষার তাগিদ, অন্যদিকে বাঁধ না কাটার পক্ষে লিখিত অভিযোগ—সব মিলিয়ে পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন বিলের ইজারাদাররা।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে চলতি বোরো মৌসুমে অনেক জমি অনাবাদি থেকে যেতে পারে। এতে শুধু কৃষক পরিবারই নয়, এলাকার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষকদের দাবি, বাঁধ কাটা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের বিরোধ দ্রুত নিরসন করে কৃষি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি সমাধান বের করা প্রয়োজন, যাতে কৃষকদের বোরো আবাদ ব্যাহত না হয় এবং কারও স্বার্থ অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
স্থানীয় কৃষকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এখনই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে তাদের স্বপ্ন ও জীবিকার ওপর বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে পাগনা বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে এবং সময়মতো বোরো আবাদ করে ঘরে ফসল তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।
রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতকের পাগনা বড় বিলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আসন্ন বোরো মৌসুমের আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। হেমন্ত পেরিয়ে শীতের আগমনী বার্তা এলেও বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। সময়মতো পানি না কমায় ধানের বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এদিকে বিলের পানি নিষ্কাশনে বাঁধ কাটা নিয়ে ইজারাদার ও কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে টানাপোড়েন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো চাষের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময় চলে এলেও পাগনা বড় বিলের পানি এখনো নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়নি। ফলে জমিতে ধানের বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদন করতে পারছেন না তারা। দ্রুত পানি না নামলে নির্ধারিত সময়ে বোরো ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে না। এতে পুরো মৌসুমের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এদিকে বিলের পানি নিষ্কাশন ও বাঁধ কাটা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাগনারপাড় বিলের ইজারাদার সোনারতরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মিরাশ আলী পক্ষের দাবি, কৃষকদের বোরো আবাদ নিশ্চিত করতে পানি নিষ্কাশন জরুরি। তবে একটি পক্ষ বাঁধ না কাটার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
ইজারাদার পক্ষের অভিযোগ, যারা বাঁধ কাটার বিরোধিতা করে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের পাগনা বড় বিলে কোনো জমি নেই। জমি না থাকা সত্ত্বেও তারা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছেন। এতে বোরো জমি চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় আনছার আলী গংয়ের বিরুদ্ধে পানি নিষ্কাশন ও বোরো চাষে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে একদিকে কৃষকদের বোরো আবাদ রক্ষার তাগিদ, অন্যদিকে বাঁধ না কাটার পক্ষে লিখিত অভিযোগ—সব মিলিয়ে পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন বিলের ইজারাদাররা।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে চলতি বোরো মৌসুমে অনেক জমি অনাবাদি থেকে যেতে পারে। এতে শুধু কৃষক পরিবারই নয়, এলাকার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষকদের দাবি, বাঁধ কাটা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের বিরোধ দ্রুত নিরসন করে কৃষি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি সমাধান বের করা প্রয়োজন, যাতে কৃষকদের বোরো আবাদ ব্যাহত না হয় এবং কারও স্বার্থ অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
স্থানীয় কৃষকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এখনই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে তাদের স্বপ্ন ও জীবিকার ওপর বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে পাগনা বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে এবং সময়মতো বোরো আবাদ করে ঘরে ফসল তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।