শুভসন্ধ্যা/নমস্কার। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প—লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমান্তে ডালিয়া পয়েন্টে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'তিস্তা ব্যারেজ'। উত্তরাঞ্চলের 'মরুকরণ' রোধ এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধার মাধ্যমে এক বিপুল বিপ্লব ঘটিয়েছে এই ব্যারেজ। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে দেশের দুজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির স্মৃতি ও অবদান। আজ আমরা জানাব তিস্তা ব্যারেজের সেই ইতিহাস ও এর বর্তমান অবস্থার গল্প। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধির প্রতিবেদনে।
উত্তরাঞ্চলের এক সময়ের খরা ও মঙ্গা দূরীকরণে ১৯৭৯ সালের ১২ই ডিসেম্বর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হয়। সেদিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মাধ্যমেই সূচনা ঘটে কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার এক বিশাল সম্ভাবনার।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমে সম্পন্ন হয় ব্যারেজের মূল নির্মাণকাজ। পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালের ৫ই আগস্ট (বাংলা ২৩ শে শ্রাবণ, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ) তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিস্তা ব্যারেজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এই ব্যারেজ। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করায় কৃষকরা তাদের জমিতে তিন ফসলি ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।
শুধু কৃষিতেই নয়, বিশাল এই নদীর পার, জলকপাট ও বাঁধ এলাকাকে ঘিরে ডালিয়া এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে নদীর রূপ উপভোগ করতে আসেন।
উত্তরাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প দেশের জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক অবদান রেখে চলেছে। ডালিয়া, লালমনিরহাট থেকে ছিল আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
শুভসন্ধ্যা/নমস্কার। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প—লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমান্তে ডালিয়া পয়েন্টে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'তিস্তা ব্যারেজ'। উত্তরাঞ্চলের 'মরুকরণ' রোধ এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধার মাধ্যমে এক বিপুল বিপ্লব ঘটিয়েছে এই ব্যারেজ। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে দেশের দুজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির স্মৃতি ও অবদান। আজ আমরা জানাব তিস্তা ব্যারেজের সেই ইতিহাস ও এর বর্তমান অবস্থার গল্প। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধির প্রতিবেদনে।
উত্তরাঞ্চলের এক সময়ের খরা ও মঙ্গা দূরীকরণে ১৯৭৯ সালের ১২ই ডিসেম্বর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হয়। সেদিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মাধ্যমেই সূচনা ঘটে কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার এক বিশাল সম্ভাবনার।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমে সম্পন্ন হয় ব্যারেজের মূল নির্মাণকাজ। পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালের ৫ই আগস্ট (বাংলা ২৩ শে শ্রাবণ, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ) তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিস্তা ব্যারেজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এই ব্যারেজ। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করায় কৃষকরা তাদের জমিতে তিন ফসলি ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।
শুধু কৃষিতেই নয়, বিশাল এই নদীর পার, জলকপাট ও বাঁধ এলাকাকে ঘিরে ডালিয়া এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে নদীর রূপ উপভোগ করতে আসেন।
উত্তরাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প দেশের জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক অবদান রেখে চলেছে। ডালিয়া, লালমনিরহাট থেকে ছিল আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন।