চার দিন ধরে সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় কাটছিল বাবা-মায়ের প্রতিটি মুহূর্ত কোথায় আছে, কেমন আছে এমন দুশ্চিন্তায় যখন পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা, ঠিক তখনই স্বস্তি হয়ে এলো পুলিশের তৎপরতা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, চলাচলের সূত্র অনুসন্ধান এবং পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতায় অবশেষে নিখোঁজের চার দিন পর সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১১ বছরের শিশু মো. ফাহিম হোসেনকে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে গাজীপুর মহানগরীর আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ঘোষবাগ বড়বাড়ি ক্যামিকেল মোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিম। সে সোলায়মান হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৪ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। জিডি নিবন্ধনের পরপরই শিশুটিকে খুঁজে বের করতে মাঠে নামে পুলিশ।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে গভীর বিশ্লেষণ শুরু করেন। ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিখোঁজের পর ফাহিম একটি কাভার্ড ভ্যানে উঠে এলাকা ছেড়ে যায়। পরবর্তীতে সে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় পৌঁছায়।
এই সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতে গাজীপুরের আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ফাহিমকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অভিযানের বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাহিম বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার যাতায়াতের সূত্র ধরে এগোতে থাকি। পরে বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিকের সহযোগিতা ও যানবাহন পরিবর্তনের তথ্য মিলিয়ে আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। একটি শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির।
এদিকে দীর্ঘ চার দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে ফাহিমের পরিবারে। আবেগাপ্লুত বাবা সোলায়মান হোসেন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারিনি। কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানতাম না। পুলিশের আন্তরিক চেষ্টার কারণেই আজ আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পেয়েছি। ছেলেকে ফিরে পেয়ে যে কী শান্তি লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চার দিন ধরে সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় কাটছিল বাবা-মায়ের প্রতিটি মুহূর্ত কোথায় আছে, কেমন আছে এমন দুশ্চিন্তায় যখন পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা, ঠিক তখনই স্বস্তি হয়ে এলো পুলিশের তৎপরতা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, চলাচলের সূত্র অনুসন্ধান এবং পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতায় অবশেষে নিখোঁজের চার দিন পর সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১১ বছরের শিশু মো. ফাহিম হোসেনকে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে গাজীপুর মহানগরীর আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ঘোষবাগ বড়বাড়ি ক্যামিকেল মোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিম। সে সোলায়মান হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৪ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। জিডি নিবন্ধনের পরপরই শিশুটিকে খুঁজে বের করতে মাঠে নামে পুলিশ।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে গভীর বিশ্লেষণ শুরু করেন। ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিখোঁজের পর ফাহিম একটি কাভার্ড ভ্যানে উঠে এলাকা ছেড়ে যায়। পরবর্তীতে সে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় পৌঁছায়।
এই সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতে গাজীপুরের আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ফাহিমকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অভিযানের বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাহিম বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার যাতায়াতের সূত্র ধরে এগোতে থাকি। পরে বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিকের সহযোগিতা ও যানবাহন পরিবর্তনের তথ্য মিলিয়ে আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। একটি শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির।
এদিকে দীর্ঘ চার দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে ফাহিমের পরিবারে। আবেগাপ্লুত বাবা সোলায়মান হোসেন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারিনি। কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানতাম না। পুলিশের আন্তরিক চেষ্টার কারণেই আজ আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পেয়েছি। ছেলেকে ফিরে পেয়ে যে কী শান্তি লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।